১৯-এ বিজেপির হাতিয়ার কি মন্দির ?

0
63

উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু মন্দির, হিন্দুত্ব- কোনোদিনই তাঁর পিছু ছাড়েনি। খোল-করতাল-সাধু, সন্ত- মন্দির থুড়ি হিন্দুত্ব-এসব বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আরএসএসের ঘারানায় বেড়ে উঠেছেন মোদী। তাই মুখে উন্নয়নের কথা বললেও এসব থেকে কোনোদিন বেরোতে পারেননি তিনি। আারও সেটাই প্রমাণ করলেন। সাধু, সন্ত, আরএসএসের অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির চাপ মোদীর ওপর ছিলই। তিনি বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই সরকারি পদক্ষেপ হবে। কিন্তু সাধু সন্তদের ক্ষোভ বাড়ছে দেখে পিছু হটলেন তিনি। গেলেন আদালতে। আসলে তিনি নিজেও তো মন্দির রাজনীতি থেকে কোনোদিন বেড়িয়ে আসেননি। বিজেপি উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার আগে তাদের ইস্তেহারে রামমন্দির তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল। সেই পথেই এগোচ্ছেন মোদী।

সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে সরকার জানিয়েছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমির পরিমাণ মাত্র ০.৩১৩ একর। এর বাইরে যে জমি কেন্দ্র অধিগ্রহণ করেছে, তাতে ৪২ একরের মালিকানা রামজন্মভূমি ন্যাসের। সেই জমি ন্যাসকে ও বাকি জমি মালিকদরে ফেরত দিতে কেন্দ্রের আপত্তি নেই।। বিশ্ব হিন্দু পরিষ জানাচ্ছে, কেন্দ্রের কাছে থাকা অযোধ্যায় ৬৭.৭০৩ একর জমি পেলে এখনই তারা মন্দিরের কাজ শুরু করতে পারে। পরে মামলার নিষ্পত্তি হলে গর্ভগৃহের কাজ শুরু হবে।

মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড তো বটেই, নির্মোহী আখাড়াও বাধ সেধেছে। কংগ্রেস রে রে করে উঠেছে। কিন্তু এটা বিজেপির পুরনো চাল। আগে বহুবার হিন্দুত্ব মন্ত্রে বাজিমাত করেছে বিজেপি। এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। রাফালে থেকে কৃষক সমস্যা নিয়ে মোদীকে ফালাফালা করছে বিরোধীরা। এই অবস্থায় সদ্য ৫ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। বিরোধীরা ১৯-এর ভোটে লড়তে একজোট হওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। সব মিলিয়ে মোদী-শাহদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। তাই কি তাঁরা এসব থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতেই মন্দির হাতিয়ার করতে চাইছে।

প্রশ্ন হল, এখন রাজনীতির ধরণ বদলে গেছে। এখন যুবকরা চাকরি চান, মানুষ উন্নয়ন চান, শিল্প চান, বিরোধীদের হাতে রাফালের মতো গরম ইস্যু। এই অবস্থায় হিন্দুত্বের আবেগ কি কোনোভাবে কাজে লাগাতে পারবে বিজেপি? রথ রাজনীতি করে একসময় ঝড় তুলেছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি। কিন্তু বিজেপি এখনো রথে সওয়ার হতে মরিয়া। হিন্দুত্ব তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এই অবস্থায় মন্দিরকে হাতিয়ার করে বিজেপি কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, তা সময়ই বলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here