ক্ষমতায় এলে তিন তালাক বিল বিলুপ্ত করব, দাবি কংগ্রেসের

0
48

ক্ষমতায় এলে তিন তালাক বিল বিলুপ্ত করবে কংগ্রেস।

কারণ এর ফলে মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণ হবে না। এটা মুসলিম পুরুষদের শাস্তি দেওয়ার কৌশল। এদিন নয়াদিল্লির এআইসিসি-র সংখ্যালঘু কনভেনশনে এমনটাই বললেন মহিলা কংগ্রেস সভাপতি সুস্মিতা দেব। তখন সেখানে উপস্থিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। মুসলিম সমাজের একটা অংশ মনে করে, এই বিল আইনে পরিণত হলে আদৌ মুসলিম মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। একে ঘিরে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের আবগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস। অন্যদিকে এই বিলের বিরোধীরা মনে করেন, একে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।


Congress leader Sushmita Dev

এদিন রাহুল গান্ধীর সামনেই সুস্মিতা দেব বলেন,

`আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, কংগ্রেস ২০১৯-এ ক্ষমতায় এলে তিন তালাক আইন হতে দেব না। এটা আইন হলে মোদী সরকার মুসলিম পুরুষদের গ্রেফতার করে তাঁদের হেনস্থা কতে পারবে। তাঁদের জেলে ভরে দেওয়ার এটা একটা কৌশল।‘ বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটা কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতি। গত শীকালীন অধিবেশনে ৫ ঘণ্টা বিতর্কের পর লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয় সংশোধিত তিন তালাক বিল। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বিলটি পেশ করেন। বিরোধীরা বিলটিকে জয়েন্ট সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিতে সরব হয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই বিলটি এনে ধর্মীয় ব্যাপারে নাক গলিয়েছে সরকার। যদিও সরকারের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলেছিল।

বিলটি আইনে পরিণত হলে, জামিন অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধের তকমা পাবে তিন তালাক প্রথা। অভিযুক্ত স্বামীর শাস্তি হবে তিন বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা। আর স্ত্রী পাবেন ভরনপোষণ। বিলটিতে কী সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমত, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী বা তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, মামলা শুরু হওয়ার পর স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেলে স্ত্রী সেই মামলা তুলেও নিতে পারেন। তৃতীয়ত, একমাত্র স্ত্রীর বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত স্বামীকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাজিস্ট্রেট। সংশোধিত বিলে আরো বলা আছে, স্ত্রীর বক্তব্য শুনে একমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটই স্বামীকে জামিন দিতে পারেন। এই ক্ষমতা শুধু তাঁরই। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিক কোনোভাবেই জামিন দিতে পারবেন না অভিযুক্ত স্বামীকে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন মরিয়া চেষ্টা চালায় মোদী সরকার। অবশেষে সংশোধিত রূপে বিলটি লোকসভায় পাশ হয়। এখন রাজ্যসভায় ঝুলে রয়েছেবিলের ভবিষ্যৎ।

মুসলিমদের একাংশ মনে করে, একে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে মোদী সরকার। তাই বিলটি আইনে পরিণত করার এত তাড়া! মুসলিম সমাজের আবেগ কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here