যা টাকা ছিল, নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছে!

0
44

ফোনে বিলাপের মতো শোনাচ্ছিল তার কথাগুলো। মরিগাও জেলার নেলি থেকে ৫৮ বছর বয়সি আব্দুল হামিদ বললেন, আমি লেখাপড়া জানি না। যা টাকা ছিল, এত দিন ধরে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছে। এত মামলা জেতার পরেও তালিকায় নাম নেই। জানি না, আর কীভাবে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে হবে!
আসাম আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মরিগাও জেলার নেলিতে ছ’ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে কয়েক হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছিল।
হামিদের পরিবারের ৬ জন সে-দিন নিহত হন। তার পর ২০১০, ২০১২, ২০১৬ সালে তার নামে তিন বার ডি-ভোটারের নোটিস আসে। চলে তথ্যপ্রমাণের লড়াই।
প্রৌঢ় জানান, মামলার জন্য উকিলকে টাকা দিতে হয়েছে। আবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতেও টাকা দিতে হয়েছে বিভিন্ন দালালকে। তবে ভারতীয় হওয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকায়, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল প্রতি বারই তাকে ভারতীয় বলে রায় দিয়েছে।
তার পরেও চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়েছে তার নাম। নাম নেই স্ত্রী এবং চার ছেলেমেয়েরও। কেন? জবাব খুঁজছেন হামিদ। এনআরসি কর্তৃপক্ষের তরফে এখন যদি কোনও চিঠি আসে! তা কাউকে দিয়ে পড়িয়ে তিনি জানবেন, কেন নাগরিক পঞ্জির খসড়া থেকে তাদের পুরো পরিবার বাদ পড়ল! তার পর আবার আবেদনের পর্ব। কিন্তু এই চিঠি আসা নিয়েও সংশয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here