‘কে বলে গো এই প্রভাতে নেই তুমি’; মরণের পারে তুমি অমর’

0
530


সাইদুল ইসলাম,
বদরপুর,

অনন্য প্রতিভার অধিকারী উত্তরপূর্ব ভারতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হজরত আল্লামা তৈয়িবুর রহমান সাহেব ১৯৩১ ইংরাজীর ২৬ জুন শুক্রবার ভোর ৩-০০ ঘটিকায় হাইলাকান্দি শহর সংলগ্ন রাঙ্গাউটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মওলানা আব্দুল আজিম বড়ভূইয়া অত্যন্ত সৎ নিষ্টাবান ও আমানতদার ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য তাঁর পিতা তাঁকে ২০ নং রাঙ্গাউটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে উত্তীর্ণ হন। বাল্যকাল থেকেই তিনি যে ভাবে মেধাবী ছিলে অনুরূপ ভাবে সৎ চরিত্রবান ও পরহেজগার ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর হাইলাকান্দি সিনিওর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৩ ইংরাজীতে ইন্টারমেডিয়েট ও মাদ্রাসা ফাইন্যাল (এফ এম) পরীক্ষায় আসামের মধ্যে প্রথম বিভাগে, প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন।

হাদীস শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য দারুল হাদিছ দেওরাইল টাইটেল মাদ্রাসায় ভর্তি হন, সেখান থেকে ১৯৫৭ সালে আসাম মাদ্রাসা টাইটেল ফাইন্যাল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তিনি প্রথম আমিরে শরিয়ত তথা প্রাক্তন বিধায়ক হজরত মওলানা আব্দুল জলীল চৌধুরী (রঃ) সাহেবের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর কাছে পবিত্র হাদিছশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তৎসঙ্গে তার কাছ থেকেই ইলমে তছউফের (আধ্যাত্মিকতার) বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেন। মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সাথে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাইভেটভাবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ ইংরাজীতে তিনি গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী বিষয় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে এম এ পাশ করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তখনকার সময় মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত লোকের অভাব ছিল। তিনি আসাম রাষ্ট্রভাষা প্রচার সমিতি গুয়াহাটির অধীনে প্রথমা, প্রবেশিকা ও প্রবোধ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৫৫ ইংরাজিতে রাষ্ট্রভাষা বিশারদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রৌপ্যপদক লাভ করেন। তাছাড়া তিনি মেঘালয়ের ইউনিভারসিটি সাইন্স এণ্ড টেকনোলজি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৫৭ ইংরাজিতে তিনি হাইলাকান্দি সিনিয়র মাদ্রাসায় হিন্দি শিক্ষকরূপে কর্মজীবন আরম্ভ করেন। অতঃপর ধাপে ধাপে শিক্ষক, সহ অধীক্ষক পদে করে ১৯৭৬ ইংরাজিতে অধীক্ষকরূপে কার্যভার গ্রহণ করেন এবং সুদীর্ঘ ২০ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৬ ইংরাজিতে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৫৭ ইংরাজি থেকে ১৯৭৬ ইংরাজি পর্যন্ত আসাম রাষ্ট্রভাষা প্রচার সমিতি গুয়াহাটি এবং রাষ্ট্রভাষা প্রচার সমিতি ওয়ার্ধার প্রচার কার্য পরিচালনা করেন। মাদ্রাসা ছুটির পর ছাত্রদেরকে তিনি বিশারদ এবং কোবিদ পর্যন্ত শিক্ষা দান করতেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকও ছিলেন এবং ১৯৬২ ইংরাজী থেকে ১৯৬৭ ইংরাজী পর্যন্ত হোমিওপ্যাথি শিক্ষাদান করেন। পরে অন্যান্য ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সমস্ত ছেড়ে দেন। তাঁর পিতা তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন আজীবন মাদ্রাসা শিক্ষাদানে রত থাকেন। গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুনামের সাথে এম এ পাশ কারার পর তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় প্রধান মরহুম সৈয়ীদ শামসুল হুদা সাহেব তাঁকে প্রথমে অস্থায়ীভাবে নিযুক্তি দিয়ে পরে নিয়মিতকরণের প্রস্তাব দেন। অনুরূপভাবে তৎকালীন গুয়াহাটি কটন কলেজের বিভাগীয় প্রধান মযহুম আব্দুল লতিফ তাঁকে কটন কলেজে প্রথমে অস্থায়ীভাবে নিযুক্তি দিয়ে পরে নিয়মিতকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি উভয় প্রস্তাবেই সায় দেননি। ১৯৭১ ইংরাজী থেকে ২ বছর কাল তিনি বদরপুর দেওরাইল দারুল হাদিছে গিয়ে পবিত্র হাদিছ গ্রস্থ মুসলিম শরিফ এবং তিরমিজি শরিফ শিক্ষাদান করেন। ১৯৯৬ ইংরাজিতে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করলেও অসুস্থতের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসা ফাইন্যাল পরীক্ষার পাঠ্য পবিত্র মিসকাত শরীফ পাঠ করতেন। এবং কোন কোন টাইটেল মাদ্রাসার ছাত্ররা এসে তাঁর কাছ থেকে পবিত্র বুখারী শরীফের সবক গ্রহণ করে থাকতেন। ২০০৮ সালে তাকে কাছাড় টাইটেল মাদ্রাসার শ্বেখুল হাদিছ রূপেও নিযুক্তি দেওয়া হয়।

কর্মজীবনে তিনি বিশেষ সুনাম অর্জন করেন এবং বিভিন্ন পুরষ্কার দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আসাম টাইটেল মাদ্রাসা ফাইন্যাল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হয়ে কর্মজীবনে ইসলামী জ্ঞানে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ১৯৭৫ ইংরাজীতে অনুষ্ঠিত দেওরাইল টাইটেল মাদ্রাসার সমাবর্তন উৎসবে স্বর্ণপদক দ্বারা পুরস্কৃত করা হয়। ১৯৮২ ইংরাজীতে ভারত সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল কর্তৃক আসামে ইসলামী ও অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী একজন শিক্ষকের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পুরষ্কৃত করা হয়। ১৯৭৮ ইংরাজীতে ভারত সরকার মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক তাঁকে রাষ্ট্রপতি শ্রী আর বেঙ্কট রমণ তার হাতে এই পুরষ্কার তুলে দেন। ১৯৯২ ইংরাজীতে শিক্ষার উন্নতির ক্ষেত্রে তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সারদা চরণ দে মেমোরিয়েল ট্রাষ্ট কর্তৃক তাঁকে রোপ্যপদক দ্বারা পুরষ্কৃত করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্র, সমাজসেবা ও ও আধ্যাত্মিক বিষয় কর্মের জন্য ২০১১ সালে ‘মওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরী মেমোরিয়েল এওয়ার্ড” প্রদান করা হয়। এছাড়াও তাকে মুক্ত কণ্ঠ এওয়ার্ড, এম কিউ এইচ এওয়ার্ড সহ গত ২০১৫ ইংরাজীর ২২ ফেব্রুয়ারীতে শিলচর জেলা গ্রন্তগার প্রেক্ষাগৃহে বরাক এডুকেশন সোসাইটি কর্তৃক প্রদত্ত মওলানা আবুল কালাম আজাদ এওয়ার্ড প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। তাছাড়া তাকে ২০১৫ সালে তৎকালীন আসাম সরকারের পক্ষ থেকে মাওলানা আহমদ আলি এওয়ার্ডে প্রদান করা হয়।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। নতুন অনুচ্ছেদ ভারত বিভাগের কঠোর বিরোধী ছিলেন তিনি। ১৯৪৫ ইংরাজী থেকে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি হাইলাকান্দি হিলাল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাকরূপে দীর্ঘ ২৬ বছর, আসাম মাদ্রাসা একাডেমিক কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দীর্ঘ ১৬ বছর, হাইলাকান্দি জেলা নদওয়াতুত তামিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতীরূপে দীর্ঘ ২৩ বছর ও হাইলাকান্দি জেলা ক্বাজীয়ে শরীয়ত হিসেবে দীর্ঘ ২৪ বছর কার্য পরিচালন করেছেন। তিনি আসাম নদওয়াতুত তামীরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজ্যিক মাদ্রাসা বোর্ডের সদস্য, সিলেবাস রিভিউ কমিটির সদস্য, আসাম রাজ্যিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের গভর্ণিং বডির সদস্য, হাইলাকান্দি মহকুমা/জেলা প্রাথমিক এম ই, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক নিযুক্তির উদ্দেশ্যে গঠিত সিলেকশন কমিটির সদস্য, আসাম রাজ্যিক মিল্লি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, সর্ব ভারতীয় মুসলিম মজলিসে মুশাওরতের কার্যকরি কমিটির সদস্য, সর্বভারতীয় মিল্লি কাউন্সিলের কার্যকরী কিমিটির সদস্যরূপে কার্য পরিচালনা করেছেন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা কমিটির বা গভর্ণিং কমিটির সদস্য বা সভাপতিরূপে তিনি বিভিন্ন সময়ে কার্য পরিচালনা করেছেন। মৃত্যুর পূর্বে পর্যন্ত তিনি হাইলাকান্দি পাবলিক উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি, হাইলাকান্দি সিনিয়র মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কাছাড় টাইটেল মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি, বদরপুর আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়ার গভর্ণিং বডির সভাপতি ও জামিয়া ইসলামিয়া তৈয়ীবিয়ার গভর্ণিং বডির সভাপতিরূপে কার্য পরিচালনা করেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন কমিটির সাথে যুক্ত থেকে কার্য পরিচালনা করেছেন।

উত্তরপূর্ব ভারতের প্রথম আমিরে শরীয়ত হজরত মওলানা আব্দুল জলিল চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর ১৯৮৯ ইংরাজীতে উত্তরপূর্ব ভারতের আরবাবে হল্ আকদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে উত্তরপূর্ব ভারতের আমীরে শরীয়ত এবং একই সময়েই উত্তরপূর্ব ভারত নদওয়াতুত তামীরের আমীর (সভাপতি) নির্বাচিত করা হয় এবং অত্যন্ত সুষ্ঠভাবে ও সুনামের সাথে তিনি মৃত্যুর পূর্বে পর্যন্ত উভয় দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২৪ নভেম্বর ১৯৯১ ইংরাজীতে তাঁকে সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সন্যাল লো বোর্ডের বুনিয়াদি ও আজীবন সদস্য রূপে নির্বাচন করা হয় এবং তাকে লোক বোর্ডের কার্যকরী কমিটির সদস্যরূপেও নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর পূর্বে পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সমূহ সুনামের সাথে যথারীতি পালন করেন। তাছাড়াও তিনি সর্ব ভারতীয় ফেক্বাহ একাডেমি আদি সর্ব ভারতীয় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

আমিরে শরিয়ত তাঁর ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত তিনি আটবার হজ্জব্রত পালন করছেন। দু’বার জাহাজ যুগে এবং ছয়বার বিমান যুগে। ১৯৬৯ ইংরাজীতে তিনি প্রথমবার এস এ মুজাফফরী নামক জাহাজে হজ্জ যাত্রা করেন। তখন। মুম্বাই সাবু ছিদ্দিক মুসাফির খানায় অবস্থানকালে তিনি ফজর ও মাগরিবের পর হজ্জ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করতেন এবং এতে সমস্ত ভারতে বিরাট সংখ্যক লােক তার উপদেশ শুনার জন্য সমবেত হতেন। তাঁকে জাহাজে আমীরে তবলীগরূপে মনােনীত করা হয়। এবং জাহাজে আমীরে তবলিগ হিসেবে সমস্ত ভারতের হজ্জযাত্রীদের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করতেন। পবিত্র মদিনা শরীফে পৌছার পরও তিনি মসজিদে নব্বীতে সমস্ত পৃথিবীর হজ্জ যাত্রীদেরকে লক্ষ্য করে উপদেশ দান করতেন যেখানে
বিভিন্ন দেশের প্রচুর লােকের সমাগত হত। পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থান কালে তিনি মসজিদে হারামের বাবে আব্দুল আজিজের সন্নিকটে দোতলায় প্রত্যহ আছরের নামাঝের পর হজ্জযাত্রীদের উদ্দেশ্যে উপদেশ দান করতেন যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রচুর লােক উপদেশ শােনার জন্য সমবেত হতেন। মদীনা শরীফের জান্নাতুল বাকীতে ঝিয়ারত করার জন্য তিনি যখন যেতেন তখন ভারতীয় উপমহাদেশের হজ্জযাত্রী ছাড়াও মধ্য প্রচ্যের আরবী ভাষা-ভাষী প্রচুর লােক তার সাথে যেতেন, তিনি তাদেরকে আরবী ভাষায় রওযা সমূহ পরিচয় করিয়ে ঝিয়ারত করিয়ে দিতেন। ১৯৮৩ ইংরাজীতে তিনি এম, ভি, নুরাজাহান নামক জাহাজে দ্বিতীয়বার হজযাত্রা করেন। এইভাবে তিনি আমিরুল হুজ্জাজরূপে সমস্ত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হজ্জযাত্রীদের সেবা করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ছয়বার তিনি বিমানযােগে হজ্জযাত্রা করেন।

কর্ম জীবনের প্রথম থেকেই তিনি মুসলিম সমাজকে আদর্শ সমাজ হিসেবে গড়ে তােলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় বিধি নিষেধ নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করে আদর্শ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিযােগিতা করার জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে প্রতীযােগিতা করার জন্য, বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করার জন্য ব্যবসা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আত্মনিয়ােগ করার জন্য, যে সমাজে চুরি, ডাকাতি, মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনি নেই, যে সমাজে মানুষ মানুষের কল্যাণ কামনা করে এরূপ একটি সমাজ গড়ে তােলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মানুষ যাতে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করতে পারে তার জন্য তিনি অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তার অগণিত শিষ্য ছড়িয়ে রয়েছেন। মানুষ যদি আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করে তাহলে সমস্ত সৃষ্টি তার নিকটে এসে যাবে, কাম্য হবে সমস্ত সৃষ্টির কল্যাণ। মহানবী মুহাম্মদ ছ, ইরশাদ করেছেন সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার পরিবার পরিজন। আল্লাহ তায়ালার কাছে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক প্রিয় যে তার সৃষ্টির প্রতি সদ্ব্যবহার করে। অত্যধিক কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে থেকেই ইসালামি ফেকাহ শাস্ত্র বিষয়ে তিনি বাংলা ভাষায় চৌদ্দটি এবং ভাষায় তিনটি মূল্যবান পুস্তক রচনা করেছেন। তার জীবন কর্মময় জীবন ছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৯। রেখে গেছেন এক পুত্র মাওলানা আবুল খয়র মহবুব বড়ভূইয়া সহ হাজার হাজার অনুগামী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here