বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কিছু কথা ।

0
26

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিস্টান নিয়ে কিছুদিন আগে বিস্তর জলঘোলা হয়ে যায়। বেসরকারি প্রতিস্টান নিয়ে আলোচনা আজকের নয়। এ নিয়ে বিদগ্ধ শিক্ষাবিদরা দিস্তার পর দিস্তা অনেক আগেই খরচ করে চলে গিয়েছেন কিন্তু আলোচনা পর্যালোচনা যখন শুধুমাত্র বদরপুরের শিক্ষাপ্রতিস্টাগুলিতে কেন্দ্রিভূত থেকে যায়  তখন অনেকের ই বুঝতে বাকি থাকে নি বিষয়টা অন্য কোথাও।বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টান বদরপুরেই প্রথম বা শুধু বদরপুর ভিত্তিক ই তা নয়।বিশ্বের উন্নতমানের দেশগুলি সহ সারা ভারতবর্ষ তথা এই বরাক উপত্যকায় ও অজস্র বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টান গড়ে উঠেছে।এই দেশে মিশনারিরা যখন ইংরেজি মাধ্যমের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টান এর যাত্রা শুরু করে তখন ও বিরোধ কম হয় নি।কিন্তু তার পরও বাংলা, অসমিয়া,তামিল,তেলেগু,মারাটি ইত্যাদি ভাষিক জাতিয়তাবাদী এক্টিভিস্টরা ও সারাজীবন স্ব স্ব মাতৃভাষার পক্ষে আন্দোলন করেও ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশুনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে নিজেদের সন্তানাদিদের কনভেন্ট স্কুলে পড়াতে ভূল করেন নি।


বেসরকারি প্রতিস্টানের জন্য সরকারি স্কুলের ফলাফল খারাপ বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।আরে,আমার ছেলে ভাল বলেই তোমার ছেলে খারাপ এ কেমন যুক্তি?  বরং আমার ছেলে থেকে শিক্ষা নিয়ে  তোমার ছেলেকেও ভাল হওয়া  উচিত।অনেকে কারন হিসাবে মেধাবি ছেলেরা প্রাইভেট প্রতিস্টানে চলে যায় বলে যুক্তি তুলে ধরেছেন।ভাই,আপাত অনুধাবন আর বাস্তবের মধ্যে বিস্তর ফারাক।যাদের  প্রতিভা,মেধা ও নৈপূণ্যের বিকাশ সম্বন্ধে স্পস্ট ধারনা রাখেন বা এ নিয়ে গবেষনা করেন শুধু মাত্র তারাই বুঝবেন এ কতটুকু অবান্তর যুক্তি।প্রথমত: ছাত্র মেধা নিয়েই যদি স্কুলে যেত তবে স্কুলে যাওয়ার ত কোন কারন ই ছিল না।কিছু জন্মগত মেধাবি ছাড়া যাদেরকে এডুকেশনের ভাষায় ‘গিফটেড’ বলা হয় বাকি সবাই মেধার এবং প্রতিভার বিকাশের জন্যই স্কুলে যায়। প্রত্যেক ছেলে মেয়ের মধ্যে কোন না কোন প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। তাকে খুজে বার করা এবং তার বিকাশ ঘটানোই শিক্ষক শিক্ষয়ত্রিদের কাজ। বেসরকারি প্রতিস্টানগুলিতে যেহেতু  অভিভাবকরা টাকা খরচ করছেন এবং প্রতিস্টানকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষয়িত্রিরা ছাত্র ছাত্রিদের প্রতি অধিক মনযোগ দেন তাই ছাত্ররা অধিক ভাল ফলাফল করে।মেধাবিরা সব চলে যায় তাই সরকারি স্কুলে পড়ার পরিবেশ নেই বলে যে অভিযোগ তা একটা বাহানা এবং এই বাহানায় নিজের অক্ষমতাকে ঢেকে রাখার একটা পন্থা মাত্র।সরকারি বেসরকারি স্কুলে যাওয়া না যাওয়া মেধার ভিত্তিতে হয় না বরং বললে অত্যুক্তি হবে না আর্থিক সচ্ছলতা অসচ্ছলতার  ভিত্তিতেই হয়। আর মেধা অর্থের উপর ভিত্তি করে হয় না বরং ধনির ঘরের দুলালদের থেকে গরিবের ছেলেরা আরও বেশি মেধাবি হয়।তাছাড়া যেখানে একটা বেসরকারি প্রতিস্টানে অনেক ঝড় ঝঞ্জা মোকাবেলা করে আর্থিক অসুবিধাগুলিকে প্রতিহত করে পাঠদান করতে হয় সেখানে সরকারি স্কুলে ছাত্র শিক্ষক সবার জন্যই একের পর এক  বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা বরাদ্দ করা হয়।অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ধনিরা টাকা দিয়ে প্রাইভেট প্রতিস্টানে পড়াচ্ছে, গরিবের কী হাল হবে?
কেন? আর্থিক অসচ্ছলতার দরুন যারা বেসরকারিতে যেতে পারে না তাদের জন্য তো সরকারি স্কুলে অনেক সুবিধা আছেই।তাছাড়া অনেক প্রাইভেট প্রতিস্টান গরিবদের জন্য ছাড় দিচ্ছে এমনকি বিনামূল্যে ও পড়াচ্ছে।সমাজে ধনি গরিব আগে ও ছিল এখনও আছে আগামিতেও থাকবে। তবে আগে যেভাবে গরিবরা সুজোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত এখন সে দিন আর নেই।তবে যুক্তির কথা হল একজন গরিব উড়োজাহাজে ভ্রমন করতে পারে না বলেই সব উড়োজাহাজ বাতিল করে দিতে হবে?একজন গরিব বি এম ডব্লু কিনতে পারে না বলে সব বি এম ডব্লু কে  অবৈধ ঘোষনা  দিতে হবে? একজন গরিব ট্রেইনের ‘এ সি’ কামরার টিকিট কাটতে পারে না বলে সেগুলি বাতিল করতে হবে?একজন গরিব ফাইভ স্টার হোটেলে থাকতে পারে না বলে সেগুলি গুড়িয়ে দিতে হবে?একজন গরিব দালানকোঠা বানাতে পারে না বলে নিজের বাড়িটাকেই ভেঙ্গে ফেলতে হবে?
যদি চিন্তাধারায় অতটাই সাম্যবাদ থাকে তবে গরিবের জন্য সেগুলিতেও সমতা আনতে হবে।,এগুলিতেও গরিবের জন্য ছাড় বা কৌটার জন্য আওয়াজ তুলতে হবে। হাস্যপ্রদ মনে হলেও একবার ভেবে দেখুন তেমনটা কি কেউ করেছেন?
সবকিছুকেই বাস্তবতার কষ্টিপাথরে যাচাই করতে হয় নতুবা কাল্পনিক আবেগ দিয়ে পৃথিবির সমাজ ব্যবস্থা চলে না।
এবার আসি, প্রাইভেট প্রতিস্টান কি বে আইনি?
আলোচকদের আলোচনা পর্যালোচনার গতি প্রকৃতি থেকে একজন প্রাইভেট প্রতিস্টানের  কর্নধার হিসাবে নিজেকে এতটা ছোটলোক মনে হচ্ছিল।প্রতিদিনকার ফেইসবুক স্ট্যাটাস,পত্র পত্রিকার কলাম আর লেখকদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছিল প্রাইভেট প্রতিস্টান চালানো মানে ‘চিট ফান্ড’ বা ‘ বিজয় মালিয়ার’ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মত কিছু একটা। যেহেতু রমজান ছিল, সংযমের মাস তাই কোন ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকি তাছাড়া সমালোচনা যখন কূৎসা ছড়ানোর উদ্দ্যেশ্যেই হয়  তখন চুপ থাকাই শ্রেয় কিন্তু মানুসের অযৌক্তিক ভ্রান্তিগুলিকে দূর করা নৈতিক দায়িত্ব হেতু এ লেখায় হাত দিয়েছি।
যে প্রশ্ন করেছিলাম, প্রাইভেট প্রতিস্টান চালানো কী বে আইনি?
যেখানে সরকার অনুমোদন দিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানকে সেখানে তা বে আইনি হয় কীভাবে?
আর তথাকথিত ফেইসবুকিয় বুদ্ধিজীবিদের অপরিপক্ষ মতামতের দরুন নিজেকে বিজয় মালিয়ার সমকক্ষ মনে হবেই বা কেন?
সরকারি নীতি নির্দেশিকা মেনে সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রতিস্টিত একটা  শিক্ষা প্রতিস্টানকে ” ব্যঙের  ছাতার মত গড়ে উঠা ”  আর  “ডাকাতির আখড়া ” বলে মন্তব্য করার দু: সাহস হয় বা কীভাবে?
ভাগ্যিস,এগুলি শিক্ষা প্রতিস্টান।ক্ষমা শিক্ষকতার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাই কেউ মানহানির মামলা করেনি নতুবা জল অনেকদূর গড়াতে পারত। কোন শিক্ষা প্রতিস্টান যদি অনুমোদন ছাড়া নীতি নির্দেশিকা উলংঘন করে পরিচালিত হয় তা আলাদা ব্যপার।সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিক।কারও আপত্তি থাকবে না। শুধু শিক্ষা প্রতিস্টান কেন সব ধরনের বেসরকারি প্রতিস্টানকে সরকার শুধু অনুমোদন নয় উৎসাহ প্রদান ও করছে ,সে হস্পিটাল হোক, ক্লিনিক হোক, মোবাইল পরিষেবা হোক, ট্র‍্যন্সপোর্ট, হাওয়াই জাহাজ, জলজাহাজ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, মেডিকেল কলেজ, খনিজ তেল, কল কারখানা, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, ডাক পরিষেবা, ব্যন্ক এমনকি সরকার ইদানিং রেইল পরিষেবাকেও বেসরকারি করনের চিন্তা ভাবনা করছে কারন উন্নত বিশ্বের দেশগুলি বেসরকারীকরনের মাধ্যমেই উন্নতির চরম শিখরে পৌচেছে।এতে অসুবিধার চাইতে সুবিধা অনেক বেশি।প্রথমত: রাস্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের উপর থেকে চাপ অনেক  কমে যায় তখন পর রাস্ট্রনীতি নিয়েই সরকার অধিক মনোযোগি হওয়ার অবকাশ থাকে (যেমন আমেরিকা,ইংলেন্ড ইত্যাদি প্রথম বিশ্বের দেশগুলি তার উদাহরন)।সরকারের রাজস্বের উপর প্রভাব কম পড়ে,ব্যয়ভার অনেকটা হ্রাস পায়,কর্মসংস্থান প্রতুল হয়,অর্থনৈতিক প্রগতি ত্বরান্নিত হয়,অর্থনীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।উন্নত দেশগুলির অনুকরনে বেসরকারি করনের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি ধাপে ধাপে প্রগতির দিকে এগুচ্ছে।অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে শিক্ষা প্রতিস্টানের বেসরকারিকরনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়েই যদি আলোচনা করি তবে বলতেই হয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানের দরুন ই শিক্ষা জগতে একটা বিপ্লব এসছে,শিক্ষার প্রচার এবং প্রসার ঘটছে,নিরক্ষরতার হার হ্রাস পেয়েছে।আর্ধেক শতাংশেরও বেশি ছাত্রের বোঝা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টান বহন করে নিচ্ছে বলেই সরকার সরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানগুলিতে অধিক টাকা ব্যয় করতে পারছে যদ্দরুন গরিব ছেলে মেয়ে অধিক সুবিধা পাচ্ছে,শিক্ষক শিক্ষয়িত্রিদের বেতন অধিক হারে সরকারের পক্ষে প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে,পরিকাঠামোগত উন্নতিতে সরকার অধিক টাকা ব্যয় করতে পারছে তদুপরি ছাত্র ছাত্রিদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে।সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানগুলিতে যত ছাত্র পড়ছে তার বোঝা যদি সরকারকে নিতে হত তবে সরকারি কোষাগারে এর কতটুকু প্রভাব পড়ত তখন স্বাভাবিক ভাবেই স্কুলপ্রতি সরকারি বাজেট কমে আসত যার দরুন গরিব ছাত্র ছাত্রি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত যা এখন উপভোগ করছে।তারপর ও বিভিন্ন যায়গায় ছাত্রের অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক যোগান দিতে সরকার হিমসিম খাচ্ছে। অপরদিকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানের দরুন অনেক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে,এলাকা ভিত্তিক অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।শুধু মাত্র বদরপুর, শিলচরের কথাই যদি বলি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টানের দরুন এলাকায় অনেক ঘর ভাড়া যাচ্ছে যার ফলস্বরূপ মানুষের কিছুটা হলেও  আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে,ঠেলাওয়ালা,রিক্সাওয়ালা, অটোওয়ালা থেকে শুরু করে মুঠে মজুর, ইলেক্ট্রিসিয়ান,কম্পুউটার প্রিন্টিং,জেরক্স,লাইব্রেরি,টেইলার,কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান,সব্জিওয়ালা,মাছওয়ালা,ডিমওয়ালা, মুদির দোকান এক কথায় সমস্ত ব্যবসা প্রতিস্টান উপ
কৃত হচ্ছে।
এখন আসি বদরপুরেই এত শিক্ষাপ্রতিস্টান কেন? এবং মানুস ছেলেমেয়ে পড়ানোর জন্য বদরপুরমুখি কেন যার দরুন ঈর্ষা  এবং পরশ্রীকাতরতার  ঢেকুর ফেইসবুকময়।কোন জিনিষ প্রতিস্টিত হওয়া এবং সফল হওয়ার পিছনে নিশ্চয় কোন গুনাবলি ও বৈশিষ্ট্য থাকবেই,সেই গুনাবলি গুলিকে অনুসন্ধান করে তার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে পারলেই শুধু বদরপুর কেন সব জায়গায় ই এমন শিক্ষা প্রতিস্টান সফল হবে,বিশেষ করে  যাদের শিক্ষাপ্রতিস্টান বদরপুরের শিক্ষাপ্রতিস্টানগুলির গুনগত মান ও তুলনামূলক সফলতার মাপকাঠিতে অনেকটা পিছিয়ে তারা ঈর্ষার বিষবাষ্প যদি ফেইসবুকে না উগলে  নিজের শিক্ষপ্রতিস্টানগুলির গুনগত মান উন্নয়নে সচেস্ট হতেন তবে সফলকাম হতেন এবং মানুষ ও সমাজ  উপকৃত হত ।সে যাই  হোক বদরপুরে আমরা যারা  বেসরকারি স্কুল চালাই তারা একে অন্যের পরিপূরক।সবাই সবার সাহায্যকারি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একে অন্যের সাহায্য  নেই এবং সাহায্য  করি।শিক্ষার প্রসার এবং প্রসারের জন্য একযোগে কাজ করে যাওয়াই আমাদের আদর্শ।কেউ কারও বিরুদ্ধে কুৎসা চড়াতে প্রবৃ্ত্ত হই না।তাছাড়া যখনই নতুন কোন স্কুলের উদ্যোগ নেওয়া হয় তখন পুরনো সব স্কুল উৎসাহের সহিত সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন, যা অন্যত্র বিরল।যার কারনেই নতুন সব স্কুল ই সফলকাম হয়।’আল আমিনের’ সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া যেমন ‘আল হিরা’ হত না ঠিক তেমনি ‘আল হিরার’ সাহায্য  সহযোগিতা ছাড়া ‘আল ইসলাহ’ হত না। ইদানিং ‘এডুল্যান্ড’,প্যারামাউন্টের’ প্রতিস্টা লগ্নে আমারা সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।কাকড়ার মত কেউ কাউকে টেনে নামানোর চেস্টা করি না।এই স্পিরিট আছে বলেই আজ সব প্রতিস্টিত।শুধু বদরপুর কেন, শিক্ষার সঠিক প্রচার ও প্রসারের জন্য বরাকের যে কোন জায়গায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আমরা সদা প্রস্তুত এবং সাধ্যমত আমরা তা করেও আসছি।দ্বিতিয়ত: একটা শিক্ষা প্রতিস্টান গড়ে তুলা এবং তা সফলভাবে চালিয়ে যাওয়া ‘মামার বাড়ির মোয়া’ নয়।অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়।তাছাড়া টাকা পয়সা, ব্যক্তিত্ব বা উচ্চ ডিগ্রি দিয়েই একটা শিক্ষা প্রতিস্টান চালানো যায় না সফলভাবে।স্কুল খুলা তো যে কেউ খুলে নিতে পারবে কিন্তু মানুষ সেদিকেই ছুটবে যেখানে  ভাল শিক্ষা পাবে।একটা শিক্ষা প্রতিস্টানকে সফলভাবে চালাতে পরিচালককে শুধুমাত্র একটি বিষয়ে ডক্টরেট করে নিলেই চলবে না বরং প্রতটি ক্লাসের প্রতিটি সাবজেক্টে পরিপুর্ণ ধারনা থাকতে হবে,শৈক্ষিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে পূর্ণ  জ্ঞান থাকতে হবে।ক্লাসরুম মেনেজমেন্ট,স্টাফ মেনেজমেন্ট,পাবলিক মেনেজমেন্ট,মানি মেনেজমেন্ট,মার্কেট মেনেজমেন্ট,ভাল পরিকাঠামোর জন্য পর্যাপ্ত মূলধন, সর্বোপরি অপরিসিম ধৈর্য্য এবং কঠোর পরিশ্রমি হতে হবে।তাই বলি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিস্টান বাইরে থেকে যতটা মনে হয় “ব্যঙের ছাতার মত” এমনি এমনি গড়ে উঠেছে বাস্তবে তা নয়।বিস্বাস না হলে উদ্যোগ নিয়েই দেখেন তখনই বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল হয়।
                                                                                                           মোহাম্মদ শাহজাহান, বদরপুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here