Jan 9, 2018

হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের হেনস্থা, আত্মঘাতী তরুণী

ওয়েবডেস্ক: ২০ বছরের তরুণীকে আত্মহত্যা করার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে পুলিস এক হিন্দুত্ববাদী নেতাকে গ্রেপ্তার করল। এই ঘটনায় বেশ কিছু হিন্দুত্ববাদী নেতার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিস। কর্নাটকের চিকমাগালুর জেলার মুদিগেরে অঞ্চলের ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার স্থানীয় নেতা অনিল রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মঘাতী তরুণীর পোস্ট নিয়ে তাঁকে ক্রমাগত হেনস্থা করা হয়। 
কর্মাসের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ধ্যানাশ্রীকে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটো দেওয়া নিয়ে ক্রমাগত হেনস্থা করতে থাকে বজরঙ্গ দল এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার মত হিন্দুত্ব দলগুলি। এমনকী ওই তরুণীকে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে মেসেজ করে বলা হয় যে তিনি মুসলিমদের মত আচরণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। এই ঘটনার পরই চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ওই তরুণী আত্মহত্যা করেন। পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়ে তরুণীর মা পেশায় দর্জি জানান, ৪ জানুয়ারি থেকে তাঁর মেয়েকে হেনস্থা করা শুরু হয়। এক অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর মেয়েকে হোয়াটস অ্যাপে করা মেসেজের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। পুলিস পরে সেই ফোন নম্বরটিকে সনাক্ত করে ওই ব্যক্তির খোঁজ পায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তোষ নামের এক ব্যক্তি যে ম্যাঙ্গালোরের বজরঙ্গ দলের সক্রিয় কর্মী সেই ধ্যানাশ্রীকে ফোন করত এবং জিজ্ঞাসা করত কেন ধ্যানাশ্রী মাথায় মুসলিমদের মত স্কার্ফ বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটো পোস্ট করে।
পুলিস জানায়, সন্তোষ ক্রমাগত ফোন করে ওই তরুণীকে হেনস্থা করত। এমনকী তাঁর মাকেও ফোন করে মেয়েকে সামলে রাখার হুমকীও দিত। সন্তোষ ফোন করে জানাত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্যানাশ্রীর লজ্জাজনক ফটো পোস্ট করা বন্ধ হোক। নতুবা পরিণাম খারাপ হবে। তরুণীর মা অভিযোগ করে জানান, এই ঘটনার পরের দিনই বজরঙ্গ দলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কর্মী এসে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে শাসিয়ে যায়। 
৬ জানুয়ারি ধ্যানাশ্রী বাড়িতে একাই ছিলেন। সেই সময় তিনি আত্মহত্যা করেন। ধ্যানাশ্রী তাঁর সুইসাইড নোটে লিখে যান, হিন্দুত্ববাদীদে কর্মীদের হেনস্থা ও মিথ্যা বদনাম তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। তাঁর সঙ্গে কোনও মুসলিম ছেলের সম্পর্ক নেই। এই হেনস্থার জন্য শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও ভুগতে হচ্ছে। ধ্যানাশ্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই অনিল রাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। খোঁজ চলছে সন্তোষ সহ বেশ কিছু হিন্দুত্ববাদী কর্মীরও। 

No comments: